মানুষ সুখ পেতে চায়. সে সুখ পাওয়ার খোঁজে ছুটে বেড়ে. কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হলো মানুষ দু:খকেই বেশি আপন ভাবে. দু:খই মানুষের মনকে সবচেয়ে কাছথেকে স্পর্শ করে যেতে পারে. সুখ নয়. সুখের চেয়ে দু:খই বেশি মর্মস্পর্শী হয়. মানুষ যত চায় দু:খ থেকে নিজেকে দুরে সরিয়ে রাখতে কিন্তু ততই দু:খই যেনো মানুষকে সবথেকে বেশি আপনার করে নেয়. এ বড় জটিল চিন্তার বিষয়. বড় গভীর মনবিজ্ঞান. শুরুতে তাই এই কথাগুলো পাগলে প্রলাপ মনে হতে পারে. এবার ব্যাখ্যায় আসছি. খুব সহজ একটি উদাহরণ দি. আপনি অনেক সিনেমা দেখেছেন. ভেবে বলুন কত হাসির বা আনন্দের সিনেমা আপনার মনে দাগ কেটেছে আর কত দু:খের সিনেমা? আনন্দের কটা দৃশ্য আপনার মনে আছে আর দু:খের কটা? ভাবুন যদি দেখে থাকেন রাজেশ খান্নার “আনন্দ” বা রাজ কাপুরের “মেরা নাম জোকার”. কি মনে হয়, কোনো ছবিতে কোনো বিয়ের দৃশ্য বেশি মর্মস্পর্শী না মৃত্যুর দৃশ্য? এই হিসাবে সর্বদাই দেখবেন যেনো দু:খই আপনাকে কাছ থেকে স্পর্শ করতে পারে. আপনার মনে বেশি রেখাপাত করতে পারে. হয়েত ভাবছেন সেতো ঠিক. তাতে কি হলো. এবার সেই কথাতেই আসছি. অদ্ভুত বিষয়টা হলো, আমাদের অজান্তেই আমরা কিন্তু দু:খকে বেশি ভালোও বাসি. কিভাবে? দেখুন আপনাকে যদি সেক্সপিয়ারের রচনা সমগ্র দেওয়া হয়, আপনি ঘুরে ফিরে ট্রাজেডি গুলি পরবেন. কমেডি গুলো কম. গানের ক্ষেত্রেও যেনো কথাও না কথাও বেদনার গান বেশি হৃদয় গ্রাহী হয়. যতই আমরা সুখের পেছনে ছুটিনা কেন. দু:ক্ষতেই যেন আসল সুখ লুকিয়ে থাকে. কি অদ্ভুত না এই চিন্তা? এই মনোবিদ্যা? পৃথিবীর বড় বড় সৃষ্টি ও স্রষ্টার জন্মের পেছনেও যেন এই দু:খেরই হাত বর্তমান. যেমন রবীন্দ্রনাথ থেকে চার্লি চাপলিন. এমন আরো অনেকে. আমাদের স্রষ্টাও যেনো এই বিষয়টি জানেন বলেই সেই তাদের, যাদের কিছু সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই পৃথিবীতে পাঠান, তাদের ভরে দেন অপার দু:খো. যেনো “দু:খো বীনা সুখলাভ হয় কি মহি তে?” এই অদ্ভুত বিষয়টি কাল উপলব্ধি করি এবং তাই আজ লিখলাম. এবার দু:খ নিয়ে কিছু গান ও কবিতার লেখার পালা.
Leave a Reply