মেজর ডি. কে রায় তাঁর ডায়েরিতে লিখে রেখে গেছেন এই ঘটনাটি।এই ঘটনাটি তার জীবনের ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর,রোমহর্ষক এবং অকল্পনীয় ঘটনা।ঘটনাটি ঘটার পর তার ডান হাতটা কেটে বাদ দিতে হয়।সেই ঘটনাটি এখানে লিখছি।
মেজর রায় একবার নিজের একটা দরকারি কাজে গিয়েছিলেন প্রতাপ গড় নামক গ্রামে।গ্রাটিতে এককালে রাজত্ব করতেন রূদ্র প্রতাপ নামক রাজা।তার নামেই এই গ্রামটির নামকরণ করা হয়। সাংঘাতিক রাজা ছিলেন তিনি।কত লোকের যে প্রাণ নিয়েছিলেন তার শেষ নেই।সেই রাজার দুর্গ এবং প্রাসাদ এখনও রয়েছে এই গ্রামে। গ্রামের মানুষদের কেই সেই দুর্গের ধারে কাছে যায়না।শুধু ধারে কাছে কেন,যেখান থেকে দুর্গ ও প্রাসাদের চূড়া দেখতে পাওয়া যায় সেখানেও যায়না।এর পেছনে একটা কারণ আছে।সেই কারণটা খুঁজে বার করতেই মেজর রায় সেই গ্রামে গিয়েছিলেন।গ্রামের পথে একজনকে দেখতে পেয়ে তিনি তার কাছে প্রথমে ওই রহস্যের কথা জানতে চাইলেন।লোকটি ভয়েতে কানে হাত চাপা দিয়ে বললো-“ওরে বাবা ও কথা আমাকে জিজ্ঞাসা করবেন না।আমি কিছু বলতে পারবোনা।আমায় রক্ষা করুন।মেজর ভাবলেন বড় আশ্চর্য জায়গা তো।এর রহস্যটা কি এমন হতে পারে,যাতে লোকে ভয়ে কিছু বলছেনা?তিনি আরেকজনকে জিজ্ঞাসা করাতে তারও সেই এওকই অবস্থা হল।তবে সে বললো এ ব্যাপারে একমাতে আমাদের গুরুজিই বলতে পারবেন।আপনি তাঁকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন।মেজরের প্রশ্ন-“কিন্তু তিনি কোথায় থাকেন?”লোকটি বললো-“ওই সামনে যে বট গাছটা রয়েছে ওটার বা দিকে অকটু গেলেই অনার কুটির দেখতে পাবেন।বলেই লোকটা হন হন করে চলে গেল।মেজর সেই লোকটার নির্দেশ মত গিয়ে সত্যিই একটা কুতির দেখতে পেলেন।কুটিরের সাম্পনে একজন সাধুবাবা বসে আছেন তপস্যায়।মেজর তাঁর সামনে হাঁটু গেঁড়ে বসে তাকে ডাকলেন-“গুরুজি আমি অনেক দূর থেকে এসেছি।একটা কথা জানার আছে গুরুজি”।এবার তিনি চোখ মেলে তাকালেন এবং বললেন-“তুমি কে বাবা?কোথায় থাক?”মেজর বললেন আমার নাম দিলীপ কুমার রায়।কলকাতা থেকে এসেছি।একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা জানার আছে।গুরুজি জানতে চাইলে মেজর রায় সব বললেন।তারপর বললেন কি এমন রহস্য যে মানুষের মনে ভয় সৃষ্টি হয়ে আছে।সব শোনার পর গুরুজি আকাশের দিকে তাকিয়ে জোড় হাত করে পাঁচবার নমস্কার করলেন আর বিড়বিড় করে কি যেন বললেন।তারপর বললেন দেখ এই ব্যাপারে গ্রামের কেউই ঠিক জানেনা।তবে এর একটা কারণ আছে।আমাদের এখানকার মহারাজ রুদ্রপ্রতাপের দুর্গে এমন কোন একটা শক্তি আছে যা মাঝে মাঝে গ্রামের ওপর সাংঘাতিক রকম হামলা করে এবং এখানকার মানুষের মনে ভয় সৃষ্টি করে।তবে সেই শক্তিটা যে কি আমিও তা জানিনা।কেউ কেউ বলে সেই শয়তান রাজাই বোধহয় ভূত হয়ে সবাইকে ভয় দেখায়।তবে আমার ঠাকুরদাদা নাকি একবার সেই ভয়ঙ্কর শক্তির মুখোমুখি হয়েছিলেন।তিনি বলেছিলেন সেটা নাকি বিশালাকার ভয়ঙ্কর জন্তু ছিল।ঠাকুরদাদার গায়ে সেই জন্তুর নোখের আঁচরও নাকি দেখেছিল লোকে।তবে যেদিন তিনি সেই বস্তুটিকে দেখেছিলেন তারপরেরদিনই তিনি মারা যান।ব্যাস এর বেশি আমি আর কিছু বলতে পারবো না।এইসব শুনেই আজও মানুষ ওই দুর্গের ধারেকাছে যেতে সাহস করে না।এবার মেজর বললেন অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে এই রহস্যটা জানানোর জন্য।তবে গ্রামের কেউ ওখানে না গেলেও আমি আমি যাব ওখানে।শুনে গুরুজি ভূত দেখার মতন চমকে উঠে বললেন-সেকি কি বলছো?এর ফল কি হবে তুমি জান?মেজর বললেন-আপনার চিন্তা নেই।কাল কুড়ি পঁচিশ জন সেনা আসবে বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে।তাই আমাদের বিশেষ ভয় নেই।তার আমি সৈনিক।মৃত্যুকে আমি ভয় করিনা।এই বলে তিনি সেখান থেকে চলে গেলেন।একটা নিরিবিলি জায়গায় দাঁড়িয়ে তিনি তার মোবাইল ফোনের সাহায্যে সেনাদের খবর পাঠিয়ে দিলেন পরেরদিন সকালে চলে আসার জন্য।গ্রামেই একটা ছোট সরাইখানায় সেই রাতটা কাটিয়ে দেবেন ঠিক করলেন।রাতে তিনি তার ডায়েরিতে আজকের ঘটনাটি লিখে রাখলেন।পরেরদিন সকাল সাতটার সময় বাইশ জন লোক এসে দাঁড়াল সেই সরাইখানার সামনে যেখানে মেজর রায় ছিলেন।তিনি আগের দিন রাতে এই সরাইখানার ঠিকানাতেই তাদের আসতে বলেছিলেন।লোকগুলো আসলে মেজরেরই সহকারি সেনা।তারা মিলিটারির জামাকাপড় পড়ে আসেনি।যাতে গ্রামের লোক তাদের ভয় না পায়।তারা বড় বড় সুটকেশ করে এনেছে তাদের আগ্নেয়াস্ত্র।মেজর রায় তাদের ঘরে ঢুকিয়ে আসতে আসতে তাদের সব কথাই বললেন।তারা শুনে সকলেই অবাক।তাদের মধ্যে একজন কর্ণেল ।তিনি মেজরকে জিজ্ঞাসা করলেন-তা আজ আমরা কি করবো?মেজর রায় বললেন আজ আমরা দূপুর বারোটা নাগাদ রওনা দেব সেই ভূতুরে দুর্গের উদ্দেশ্যে।অস্ত্র সস্ত্র তৈরী রাখো,যেকোন বিপদের মুখোমুখি যে আমাদের হতেই হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।সব কিছু গুছিয়ে নিলেন তারা।খাওয়া দাওয়া শেষ করে তাদের আগ্নেয়াস্ত্রগুলো আবার সুটকেসে ভরে বেড়িয়ে পড়লেন সড়াইখানা থেকে।আগের দিন গুরুজির সঙ্গে কথা বলার সময় মেজর জেনে নিয়েছিলেন দুর্গটি কোথায়।সেই দিকেই তারা রওনা হলেন।প্রায় দের ঘন্টা হাঁটার পর তারা দূর থেকে সেই অভিশপ্ত দূর্গ দেখতে পেলেন।চারিদিক রুক্ষ,শুকনো,উঁচু উঁচু পাহাড় দুধারে।পাহাড়গুলিতে নুড়ি পাথর ছড়িয়ে রয়েছে।
Leave a Reply