জানোয়ারের দেশে

অনিল চলেছে আমেরিকায়।তার এক আত্মীয়ের কাছে।২১টা ১৮ এ প্লেন ছাড়বে।অনিলের বাড়ীকলকাতায়।সে উঠে পড়লো রাস্তার এক ট্যাক্সিতে।ট্যাক্সি চালক এক ইয়া গালপাট্টাওয়ালা শিখ।সে জিজ্ঞাসা করলো ‘কাহা যায়গা বাবু সাব?’অনিল বললো ‘দমদম জায়গা।’বিভিন্ন কথা কইতে কইতেতারা চলেছে।গাড়ীটা খালি খালি ঘ্যাঁ ঘ্যাঁ করে আওয়াজ করছে।আর খালি স্টার্ট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।অনিল জিজ্ঞাসা করলো ‘ক্যায়া হুয়া তুমারা গাড়ীকা?এয়সা হোঁচট খা কাহাহে কিউ?”কুছ খারাপ হো গেয়ালাগতা হে।’অনিল ভাবলো সেরেছে।আজ যাত্রাটাই তার মানে অশুভ।শুরুতেই হোঁচট খাচ্ছে।তাহলে শেষে হয়তো গড়িয়েই পড়বে।অনিল বললো ‘ও ড্রাইভার,জলদি ঠিক করনা,পৌ্নে আটটা বাজ গয়া।নটায় প্লেন ছাড়েগা।ড্রাইভার বললো ‘উঠিয়ে বাবুসাব ঠিক হোগেয়া।’আটটার আগেই অনিল পৌঁছে গেল দমদমে।টাকা মিটিয়ে বিদায় করলো ট্যাক্সিকে।ঠিক সময়েই প্লেন ছাড়বে।প্লেনে ওঠার আগে যা যা করতে হয় যেমন বস্তা ওজন করানো,নম্বর আটাঁ সব করে উঠলো প্লেনে।অনিল এই প্রথম প্লেন চড়ছে।বিশেষ কিছুই জানে না।সিট নম্বর মিলিয়ে নিয়ে বসলো সিটে।প্লেন ছাড়ার আগে প্লেন ছাড়ার আগে প্লেনের ভেতর থেকে কে যেন মাইক্রোফোনে বললো-‘আপনাদের এই প্লেনে স্বাগত জানাই’।আপনাদের যাত্রা শুভ হোক।এক্ষুনি প্লেন ছাড়বে।আপনারা যে যার সিট ব্লেট বেঁধে নিন।অনিল পাশের লোকটিকে ডেকে বললো ‘দাদা,আমার তো কোমর বেল্ট রয়েছে।সিট বেল্ট তো নেই।সেটা বুঝি প্লেনে ওঠার আগে কিনে নিতে হয়?’পাশের লোকটা নিজেকে সামলে নিয়ে বললো(কারণ এরকম লোক্তার প্রথম দেখা)’দাদার কি এই প্রথম প্লেনে ওঠা হলো?’অনিল বললো’আজ্ঞে হ্যাঁ’।লোকটি তখন বললো সেইজন্যই জানেন না।এই হচ্ছে সিট বেল্ট।সিট বেল্টটা তাকে দিয়ে কিভাবে আটকাতে হয় তাও দেখিয়ে দিল।তারপর বললো এবারএকটু সামলে বসবেন।প্লেন যখন উড়বে তখন কিন্তু গা বমি দিতে পারে।অনিল বললো তা হোক।ওটাআমার অভ্যেস আছে।ব্যাঙ ট্যাঙ কাটার সময় প্রথম প্রথম অনেকবারই বমি করেছি।প্লেন উড়তেশুরু করলো।অনিল চোখ বন্ধ করে বসে রইলো।চোখ বুজেই রয়েছে দেখে পাশের লোকটি বললো ‘দাদা প্লেন আকাশে উঠে পড়েছে।আর বমির সম্ভাবনা নেই’।দেখলেন?লোকটি বললো কি?আমি বমি করিনি।বললাম না ওসব আমার অভ্যেস আছে।কিছুক্ষণের মধ্যেই খাবার এল।এয়ারহস্তেস জিজ্ঞাসা করলো ভেজ না নন ভেজ।অনিল বললো নন ভেজ।ভাবলো মাছ মাংস খাওয়াটাই ভাল শাক সব্জির থেকে।খাবার এল,ভাবলো এটা কি?এটা মাংসের ঝোলের মধ্যে মাংস না পাঁচুর পানা পুকুরে মরা কুকুর?দেখেই ঘেন্না লাগছে।খাবে কি?খেতে কিন্তু মোটামুটি ভালোই লাগলো।রঙটা যা একটু মরা মরা।খাওয়ার পাট সেরে ঘড়িতে দেখলো রাত দশটা বাজে।বেশ একটু ঘুমঘুম পাচ্ছে।…..এমন সময় দেখে প্লেনটা অতিরিক্ত দুলছে।সেই সঙ্গে বমি করছে।বমি করছে মানে ঘ্যৎ ঘ্যৎ করছে।অনিল ভাবলো আসবার সময় ট্যাক্সিটা বমি করছিল।এখন প্লেনটা বমি করছে।কি ব্যাপার রে বাবা।ট্যাক্সিতে কোন ভয় নেই।কিন্তু প্লেনের কিছু খারাপ হলেই তো গেছি।তারা,চন্দ্রবিন্দু,ফটো কত কছু হয়ে যেতে হবে।ঘ্যৎ ঘ্যৎ থেকে আওয়াজটা গো গো এ পরিণত হল।অনিল পাশের লোকটিকে জিজ্ঞাসা করলো দাদা এটা কি হচ্ছে?লোকটি বললো প্লেনের একটা ইঞ্জিন বিগড়েছে।ঠিক তখনই আবার মাইক্রোফোনটা বেজে উঠলো।সেই গলাটা আবার বলে উঠলো আমাদের চারটে ইঞ্জিনের একটা বিগড়েছে প্লেন ক্রেশ হওয়ার সম্ভাবনা আছে।সারা প্লেনে ভয়ের স্রোত ছুটে গেল।অনিল ভাবলো বেড়িয়েই বুঝে গেছি শুরুতেই যখন হোঁচট খেয়েছে,শেষে নিশ্চয়ই গড়িয়ে পড়বে।এবার কি হবে?এসব যখন ভাবছে তখন প্লেনটা গো গো করে নিচের দিকে নামতে শুরু করলো।মাইক্রোফোন আবার বললো প্লেন ক্ল্যাস করছে।বাঁচার সম্ভাবনা কম।অনিল চোখ বুঝলো।প্রচন্ড একটা ঝাকুনি দিল।তারপরই দুম দুম দাম করে শব্দ।প্লেন ফাটছে।অনিল জানে আমি মরে গেছি।কিন্তু যখন সে শব্দগুলো শুনলো তখন সে ভাবলো আমি তো মরিনি।চোখ খুলে দেখে তিন চারজন লোক গুঁই গুঁই করছে।সে দেখলো তার পাশের জনও মরেনি।তাকে সে ডেকে বললো দাদা ও দাদা আমরা বেঁচে আছি।মরিনি।তাড়াতাড়ি পালিয়ে চলুন বাইরে।এক্ষুনি প্লেনটা বাস্ট করবে।এখনও কয়েকজন বেঁচে আছে।তাদের ডেকে বাইরে গেল।প্লেনটা সোজা নিচের দিকে নেমে নিজের নাকে গোত্তা খেয়ে আবার পেছন দিকে উলটে সোজা হয়ে গেছে।তাই যারা সামনে ছিল তারা সামান্য আঘাত পেয়েছে।তারা কয়েকজন মিলে দরজা দিয়ে বেড়িয়ে এল।বাইরে চারিদিক অন্ধকার।সেদিন অবশ্য ভরা পূর্ণিমা,তবুও তখনও তো তাদের চোখ সয়নি।কেউ তাদের ব্যাগ বা মাল পত্র বের করেনি।নিজের প্রাণ বাঁচাতেই ব্যস্ত ছিল।একসময় তারা যখন খানিক দূরে গিয়ে দাঁড়িয়েছে তখন প্লেনটা প্রচন্ড শব্দ করে ফাটলো এবং চারিদিক আলোকিত হয়ে উঠলো।সেই আলোতে তারা দেখতে পেল সেটা একটা গভীর জঙ্গল।চারিদিকে বিশাল বিশাল গাছপালা।প্লেনটা ফাটার শব্দ হওয়ার খানিক পরেই সকলে শুনতে পেল দূর থেকে কিছু শিয়ালে চেচাচ্ছে।অনিল বললো দাদা গো এ যে জঙ্গল।তারা বললো সে তো দেখলাম।এবার কি হবে?বাঘ ভাল্লুক কত কি আছে কে জানে?এখানে খাবই বা কি? শোবই বা কোথায়?আরেকজন কে বললো আমার খুব ভয় করছে।এখন বাড়ীতে কি সুন্দর বালিশ মাথেয় দিয়ে ঘুমতাম।তা নয়কো…..।দূর থেকে আবার শিয়ালের হুক্কাহুয়া ডাক শোনা গেল।ওদের মধ্যে একজন সাহসী লোক বললো আজ রাতোটা না হয় গাছের ডালেই কাটাতে হবে।কাল সকালে দেখতে হবে এটা কি?জঙ্গল না গ্রাম?কারণ এখনও শিয়াল ছাড়া আর কারুর ডাক শুনতে পাইনি।গ্রামেও তো শিয়াল থাকে।বেশিক্ষণ কিছু বলতে হলনা।এবার শিয়াল ছেড়ে ডাকটা একেবারে বাঘের ডাকে পরিণত হল।চারিদিকে বাঘের ডাকের শব্দ।একজন যে কখন অজ্ঞান হয়ে পড়ে গিয়েছিল কেউ বুঝতেই পারেনি।অনিলের পায়ে ঠেকতেই চিৎকার করাতে তারা যেতে যেতে থেমে গেল।ওদের মধ্যে একজনের পকেটে একটা ছোট টর্চ ছিল।চাঁদের আলোয় বিশেষ কিছু পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিলনা।সে সেটা বের করে দেখলো একজন মাটিতে পড়ে গোঁ গোঁ করছে।অনল তাকে ধাক্কা দিতে দিতে বললো ‘ও দাদা উঠে পড়ুন অজ্ঞান হলেন কেন?লোকটা অতিরিক্ত ধাক্কায় চোখ খুলে তাকালো।ব্যাপারটা একটু বুঝে নিয়ে উঠে বসে বললো না মানে হঠাৎ বাঘের ডাক শুনলাম তো,এরকম পরিস্থিততে তো কোনদিন বাঘের ডাক শুনিনি।চিড়িয়াখানায় শুনেছি।তখন তো আর ভয় লাগেনি।কথা হতে হতেই সেই বাঘের ডাকগুলো আস্তে আস্তে কাছে এগিয়ে এসে একেবারে নিকটে উপনিত হল।হাতের টর্চটা জ্বালাতেই…..।বাপরে বাপ,দশ বারোটা চেহারাবান রয়েল বাংলা বাঘ এসে দাঁড়িয়েছে তাদের থেকে মাত্র দশ বারো হাত দূরে।এওকজন ভয়ে চেঁচিয়ে উঠে বললো ওরে বাবারে,ও বাঘ দাদারা আমাদের মেরো না,আমাদের খেয়োনা।এওকটা বাঘ বেড়িয়ে এসে দাঁত বের করে হেঁ হেঁ করে খানিকটা হাসলো।তারপর বললো তোমাদের আমরা খাইব না ধইরা নিয়া যাইব।অনিল চমকে উঠলো।ভাবলো বাঘ আবার কথা কথা বলছে।তাও আবার একগাল হেসে।এ সত্যি না স্বপ্ন?সে জিজ্ঞয়াসা করলো কোথায় নিয়ে যাবে?এওমন সময় তারা এওকটা খরখর শব্দ শুনে সকলে ফিরে তাকালো।দেখলো আর একটা ছোকরা বাঘ তার দুটো নোখ বের করে এওকটা পাথরে ঘসছে।এতক্ষণে সকলের চোখ চাঁদের আলোয় সয়ে গেছে।মোটামুটি পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে।একটা বড় বাঘ চেঁচিয়ে বললো এই ওখানে কি করছিস?খরগোশ ঠরগোস পেলি নাকি?সে মুখ ঘুরিয়েই বললো না না একটু নোখগুলোয় শান দিচ্ছিলাম।সেই বাঘ আবার বললো কেন?নোখগুলো কি সব ভোঁতা হয়ে গেছে।তখন ওই বাঘটি বললো আজ্ঞে আজ বেশ ভাল ভাল খাবার পেয়েছি তো অনেকদিন পর।তাই একটু জমিয়ে খেতে হবে।এই কথা অনল সহ সকলের পিলে চমকে উঠলো।সেই বড় বাঘটা কথাটা শুনে খুব ক্ষেপে গেল।বললো এবার আমি সত্যিই তোর নোখ ভোঁতা করে দেব।আমাদের রাজা কি বলেছিল মনে নেই?অনল আবার ভয়ে ভয়ে প্রশ্ন করলো আমাদের কোথায় ধরে নিয়ে যাবে বললো না তো?বড় বাঘ এবার অনিলের দিকে মুখ ফিরিয়ে  কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললো ‘মানুষখানায়।’অনিল বললো সেটা আবার কোন জায়গা?তোমাদের রাজধাণী বুঝি?সেই প্রথম বাঘটা আবার দাঁত বের করে বললো আজ্ঞে না।তোমাদের যেমন চিড়িয়াখানা,মোদের তেমন মানুষখানা।আমাদের রাজা ওটা তৈ্রীকরতে বলেছে।তোমাদের ওখানে খাঁচা বন্দী করে রাখবো আর আমরা তোমাদের দেখতে যাব।অনিলের বুক কেঁপে উঠলো।বললো সে কি?আমরা এখন থেকে খাঁচা বন্দী হয়ে থাকবো?আজ্ঞে এতদিন আমাদের জাত ভাইদের বন্দী করে তোমরা দেখতে যেতে।কিন্তু এখন তোমাদের বন্দী করে আমরা দেখতে যাব।আর কথা না বলে সোজা এগিয়ে চল।এই বলে সেই বড় বাঘটা তাদের পেছনে বন্দুক ধরার মতন হাতের নখটা ঠেকিয়ে নিয়ে চললো।খানিকক্ষণ যাঈয়ার পর তারা দেখতে পেল সামনে বড় বড় কাঠের বাঁশ দিয়ে খাঁচা তৈ্রী করেছে বাঘেরা তাদের মানুষখানার জন্য।তাদের একে একে সেই খাঁচায় ঢুকিয়ে দিল বাঘগুলো।খাঁচাটা বেশ বড়ই তৈরী করেছে।কি করে করলো কে জানে?সেই বড় বাঘটা খাঁচার দরজা মুখ দিয়ে বন্ধ করে দিয়ে বললো বাঃ খুব সুন্দর হয়েছে।ওদের চিড়িয়াখানার মতই হয়েছে।উদ্বোধনের পর খুব ভিড়ই হবে মনে হচ্ছে।অনিলেরসেই প্লেনে পরিচিত দাদাটা বললো আমাদের কবে ছাড়বে?যবে মরবে?আমরা খাবো কি? সে তোমাদের চিন্তা করতে হাবে না।খাদ্য সরবরাহের জন্য একজন বাঘ রেখেছি।খাবার শেষ হয়ে গেলে সে পাশের মানুষের গ্রামে গিয়ে খাবার এনে দেবে।এইসব কথা যখন হচ্ছে একজন বাঘ একটা গোল চাকার মতন কি নিয়ে এসে খাঁচায় ঢুকিয়ে দিল।অনিল জিজ্ঞাসা করলো এটা কি?তারা বললো চাকা।হুনুরা যেমন চাকায় ঝুলে ঝুলে খেলা দেখায় তোমরাও তেমনি খেলা দেখাবে।অনলরা বললো পারবো না।বাঘেরা বললো পারবো না বললে হবে না।তাও যদি তোমাদের বেশ সুন্দির কিছু দেখতে হত তাহলে কিছু করতে হত না।তোমাদের দেখতেই বাঘে আসতো।কিন্তু তা যখন নয় তখন খেলা দেখিয়েই বাঘ জড়ো করতে হবে।তোমাদের তো কিছু কিছ হুনুর সঙ্গে মিলও আছে।অনিল প্রতিবাদ জানালো আমাদের কিন্তু তোমরা অপমান করছো।তোমরা করনা?এটা জেনে নাও যে আমিও এতদিন তোমাদের চিড়িখানায় ছিলাম।সেই যে বাঘটা চিড়িয়াখানা থেকে পালিয়েছিল সেটা আমি।তোমাদেরই জাত ভাইরা আমাকে বন্দী পেয়ে কি বলতো জানো কি রে ছোলা খাবি?ধরাধরি খেলবি?সেটা আমাকে অপমান করা হল না?আমি কি তোমাদের সঙ্গে ধরাধরি খেলার যোগ্য।আমাদের দেখলেই তো তোমরা লুকোচুরি খেলো।এসব শুনে আর তারা কি বলবে?তাই চুপ করে রইলো।রাত তিনটে নাগাত তারা ঘুমিয়ে পড়লো।পরেরদিন সকালে বাঘেদের বিরাট চিৎকারে ওদের ঘুম ভেী গেল।চোখ খুলেই দেখে কিছু দূরে আসিছে একটা বড় বাঘের মিছিল।তার সামনে একটা সবচেয়ে চেহারাবানবড় আকৃতির বাঘ আসছে।চারটে বড় বাঘ তাদের ল্যাজগুলো মাথার উপরে তুলে একসঙ্গে জড়ো করে কেমন একটা ছাতার মতন তৈরী করেছে।সেই ছাতার তলেয় বড় বাঘ এগয়ে আসছে সামনের দিকে।মুখ দেখলে মনে হয় খুব বড় একজন কেউ হবে।হাঁড়ির মতন মুখ এবং ডাবা হাতার মতন থাবা তার।তার পিছনে আসছে বাঘ রাজ্যের সকল সভ্যগিণ।সেই পরিচিত বাঘটা খানিকটা এগিয়ে খাঁচার সামনে গিয়ে অনিলদের ডেকে বললো আমাদের রাজা আসছে ন আমাদের মানুষখানা উদ্বোধন করতে।তোমরা ভদ্রলোকের মতন খেলা দেখাবে বা চুপচাপ বসে থাকবে।চেঁচাবে না।রাজার পেছনে সব ব্যান্ড পার্টিওয়ালা বাঘেরা মুখে বিভিন্ন আওয়াজ করে ব্যান্ড বাজাচ্ছে।ভ্যাঁ ভ্যা৬ ঘ্যাঁ ঘ্যাঁ এইরকম।মিছিলটা এগিয়ে আসার পর একজন বাঘ মিছিল থেকে বেড়িয়ে এসে খাঁচার পাশে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দেওরার ভঙ্গিতে বললো “সকল সভ্যগণ মহারাজকে আমি প্রথমে গড় করি।দেখুন মহাশয়,মহাশয়ারা এই হল আমাদের মানুষখানা।অনেক প্রচেষ্টার ফলে আমরা এটাকে স্থাপন করতে পেরেছি।এরা ঠিক সময় আকাশ থেকে খসে পড়লো,তাই এদেরই মানুষখানার জন্তু করা গেল।নাহলে পাশের গ্রামে গিয়ে মানুষ ধরে আনতে হত।যা হোক ভগবান যা করেন বাঘের জন্য।এখন যদি আমাদের মহারাজ স্বয়ং এই মানুষখানার উদ্বোধন করেন তাহলে আমরা সকলে কৃতার্থ হই।”এই বলার সঙ্গে সঙ্গে সব বাঘেরা ল্যাজ মাটিতে বাজিয়ে ল্যাজ তালি দিল।ব্যাঘ্রাচার্য সেই চটচটারবের মধ্যে এগিয়ে এলেন।খাঁচার সামনে ঘুরে ফিরে দেখে বললেন বাঃ খুব সুন্দর হয়েছে।এই তাহলে মানুষের জাত।এতদিন আমাদের খুব জ্বালিয়েছিল।এবার কোন মানুষ জ্বালাতে এলেই এদের দেখিয়ে দেব।বলবে বাড়াবাড়ি করলে এদের সঙ্গে এই শ্রীঘরে ভরে দেব।আবার চারিদিকে ল্যাজ তালি পড়লো।এবার উদ্বোধনের পালা।এখানে সবই যেমন আশ্চর্যজনক তেমন এদের উদ্বোধনও আশ্চর্যজনক।খাঁচার পাশে একটা বাঘ,কোথা থেকে একটা লাল রঙের পতাকা এনে সেটাকে তার ল্যাজ পাকিয়ে উপরে তুলে ধরেছিল।মহারাজা এগয়ে যেতেই লযাজ নামিয়ে মহারাজার কাছে নিয়ে এল।এবার মহারাজা তার ল্যাজ দিয়ে পতাকাটা জড়িয়ে ধরে উপরের দিকে তুলে দিলেন।আর তখনই একটা বাঘ শাঁখ বাজানোর মতন ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে বিকট আওয়াজ করে উঠলো।এই হল ওদের উদ্বোধনের অনুষ্ঠান।মহারাজ আবার গুরুগম্ভীর গলেয় বলে উঠলেন-“আমাদের রাজ্যে এই প্রথম একটা দর্শনীয় জিনিস স্থাপিত হল। আজ থেকে সকল গ্রামবাসীরাই এখানে প্রবেশের অধিকার পাবে।এবার সকলে প্রাণ খুলে ল্যাজ তালি দিল। মহারাজ এবার উল্টোমুখে যাত্রা করলেন।সকলে চলে গেল।কিন্তু চারটে বাঘ রইলো খাঁচা পাহাড়া দেওয়ার জন্য। তার মদ্গ্যে সেই প্রথম দেখা বাঘটাও ছিল।পরেরদিন সকাল থেকেই অনেক দর্শক ভিড় করে আসতে লাগলো।বাঘেদের বাচ্চাগুলো কি বদমাস তারা অনিলদের জিভ দেখিয়ে বললো-“এই হনুমান কলে খাবি?মানুষখানা ঘুরতে যাবি?”অনিলরা তখন বুঝে গেছে এখানে এখন এরকম ভাবেই থাকতে হবে। বাচ্চাদের জিভ ভ্যাঙানোও সহ্য করতে হবে।সেইদিন সন্ধ্যাবেলায় সেই বাঘটাকে অনিল ডেকে বললো- “অ বাঘ দাদা,আমাদের ছেড়ে দাওনা গো।”বাঘটা চুপ করে ছিল।বার বার এক কথা বলার পর সে বললো তোমাদের চিড়িয়াখানা থেকে কি আমাদের ছেড়ে দিয়ে ছিলে?অনিল বললো ছেড়ে দিলে তো তখন তুমি আমাদেরই মারতে।বাঘ বললো থিকই বলেছো আমাদের বুদ্ধি বেশী নেই, তাই সামনে খাবার পেলে কে বন্ধু কে শত্রু ভেবে দেখি না।তাদের খেয়ে ফেলি।কিন্তু আমরা যে জঙ্গলে রয়েছি, এখন তো তোমাদের শহরের কোন ক্ষতি আমরা করছি না।তবুও তোমাদের জাত একের পর এক গাছ কেটে আমাদের যে ঘরবাড়ী ধ্বংস করছে সেটা কোন দোষ নয়?এখন খাবারের অভাবে পাশের গ্রামে যেতেই হবে। তখন তোমরা একদল হয়ে আমাদের মারে ফেল।তখন তো আমাদের কথা চিন্তা করোনা।এখন তোমরা বন্দী হয়ে কাঁদো।আমরা আনন্দ করি।কথাগুলো খাঁটি সত্যি।অনিল এবং অন্যদের কথাগুলো খুব মনে লাগলো।এগুলো চিন্তা করতে করতে তারা সে রাতে শুয়ে পড়লো।……পরেরদিন সকালে সেই প্লেনের দাদাটা অনিলকে ধাক্কা মারতে লাগলো।ওভাই উঠে পড় সবাই চলে গেছে।কি হল ওঠ।অনিল চোখ খুলে দেখলো সে প্লেনের সিটে শুয়ে আছে আর সেই প্লেনের দাদাটা তাকে ডাকছে।বলছে “সবাই চলে গেছে,ওঠ।”অনিল বললো বাঘগুলো চলে গেছে?দাদাটা বললো বাঘ?বাঘ আবার কোথা থেকে এল?স্বপ্ন দেখছিলে নাকি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *