ও সূর্য – হে সূর্য

সূর্য, আজ তোমার সাথে আমার অনেক কথা আছে। অনেকদিন ধরে বলব বলে ভাবছি, তবু বলা হয়ে উঠছেনা। সময়েই পাচ্ছিলাম না। আসলে আমাদের জীবনের কাজগুলোযে তোমার কাজের মত সঙ্গবদ্ধ এবং নিয়মমাফিক নয়। ছন্নোছাড়া যাকে বলে তেমন আমাদের জীবন। তুমি যেমন রোজ দিন একই সময় আসছো, আবার একই সময়ে ফিরে যাচ্ছো। আমাদেরতো তেমন নয়। আসলে কি জানো, তুমি যেমন নিজের ভরসায় সব কাজ সারো, নিজের কাজ কর, আমরাতো তা পারিনা। অন্যের ওপরে এত ভরসা করি যে একজনের কাজে অসুবিধা হলেই আমাদের অসুবিধা হয়ে যায়। যেমন দেখ, এইযে রোজ অফিস যাওয়া। সকালে ট্রেন ধরতে গিয়ে ট্রেন চালকের ওপরে ভরসা। তিনি ঠিক মত চালাতে আবার সিগন্যালম্যানের ওপর ভরসা। সে আবার আরেকজনের ওপর। তারপর বাসে চড়েও ড্রাইভার, রাস্তায় ট্রাফিক পুলিস, বাপরে। এতজনের কাজের ওপরে নির্ভর করছে আমাদের যাতায়াতের সময় লাগার দায়িত্ব। ভেবে দেখ কিকরে আমরা ঠিক সময় আসা যাওয়া করি। তারওপর রয়েছে আবার প্রকৃতির হাত। সেখানেও আমাদের হাজার অসুবিধা। তিনদিন একটু বেশি বৃষ্টি হয়েছি কি হয়ে গেলো। ট্রেন চলাচল বিপর্যস্ত। বোঝো। অনেক উন্নত সভ্যতা। বিজ্ঞানের অনেক অগ্রগতি কিনা। একটু ঝড় হলো কিনা, ব্যস, গাছের ডাল ভেঙ্গে ট্রেনের তারে। হয়ে গেলো। যদি ট্রেন কোন স্টেশনে থাকে তাও ভাল। কিছু অন্তত খেতে পাব, না হলে তো ক্ষিদেও ভুগতে হবে। কারন, ওই একটা গাছের ডালের এত শক্তি যে অন্তত কুড়ি হাজার লোককে বেস কয়েক ঘন্টা রাস্তায় আটকে রাখতে পারে বাড়ি ছাড়া করে। ভেবে দেখ। এসবে এত বিরক্ত হয়ে গেছি যে আজ এই সুন্দর বিকেলে একটু নদীর ধারে এসে বসলাম আর অস্তমিত তোমাকেও পেয়ে গেলাম। একটু নিজের মনের জ্বালা আর দুঃখগুলো মেটানর জন্যে। জানি তোমাকে বলা অনেক ভালো। তুমিযে দিবাকর। আচ্ছা, তুমি এলে দিন হয়ে অর্থাৎ দিবা হয়ে তাই তুমি দিবাকর। কিন্তু দেখ আরেকদিকদিয়ে ভাবলে তুমি চলে গেলে রাত্রি হয়। মানে তুমি কিন্তু “রাত্রিকর” বা নিশিকর ও বটে। তবে এই নামটা তোমায় মানাচ্ছে না। কারন? দেখ, আমাদের জীবনে হয়েতো এমন কিছু মানুষ আসে যাদের উপস্থিতিতে আমাদের জীবনে আলো আসে। সে সুখের আলো হোক বা ভালোবাসার। কিন্তু তা শুধু কয়েকজন বিশেষ মানুশের জন্যে কয়েকজনের জীবনে। আর তুমিতো সবার জীবনে আলো আনো। আবার তাও কয়েকদিনের জন্যে নয়। চিরদিনের জন্যে। তার জন্ম থেকে মৃত্যুর দিন অবদি। আর যুগ যুগ ধরে এনে চলেছো কোটি কোটি মানুশের জীবনে। কোনদিন এর অন্যথা হয়েনি। তাহোলে ভাবো তুমি কত মহান। আবার ঠিক উলটো ভাবে যদি সেই বিশেষ ব্যক্তিটি আমাদের জীবন থেকে চলে যায় তখন আমাদের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। তেমনি তুমি চলে গেলেও অন্ধকার নেমে আসে। তারমানে তুমি যে সত্যিই একজন ভালোমানুশ, ভালো বন্ধু তা প্রমান হল। তাই তোমায় নাম দিলাম “সর্বসাথী”। আবার আরেকটি বিষয় ভাবার রয়েছে এর থেকেই যে আমরা এমন অনেক মানুশ দেখি যাদের ওপর ভরসা করতে পারি। আবার এমন দেখি যাদের ওপর ভরসা করলে ঠকতেও হয়। কিন্তু তুমি? তোমার ওপর তো এই বিশ্বের প্রতিটি মানুষেরি ভরসা রয়েছে, যে আজ চলে যাচ্ছতো কি? কাল সকালে ঠিক ফিরে আসবে। তাইনা? তাহোলে ভাব, তুমি এমন একজন যাকে সারা পৃথিবির মানুষ ভরসা করতে পারে। তুমিতো “ভরসাময়”। তুমি কত মহৎ। যুগ যুগ ধরে আলো আর তাপে বাঁচিয়ে রেখেছো এই বিশ্বচরাচর। এই সৃষ্টি। তবু অবাক হই। অবাক হই এই ভেবে যে কজন মানুষ এই কথাগুলো ভাবে। কজন মানুষ সকাল হলে তোমায় স্মরন করে। নাস্তিকের দল, যারা পুজো আচ্ছা মানেনা, তারা তো তোমার পূজোকেও ব্যং করে। তারা এটা বোঝেনা, পূজো মানে কিছু ভন্ডামির পদ্ধতিমাত্র নয়। পুজা মানে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের পদ্ধতি। মন্ত্রপাঠ মানেও বুজরুকি নয়। তোমার মতন মহান যারা তাদের বলা শ্রদ্ধা মিশ্রিত কথারই সুন্দর সঙ্গবদ্ধ ভাষাই হল মন্ত্র। যেমন আমি আজেই কথাগুলো বলছি, নিজের অন্তর থেকে তোমার শক্তির, তোমার মহত্তের অস্তিত্ব বুঝতে পেরে, ধারনা করে, কিছুটা হলেও। কিছুটা হলেও বললাম কারন, তোমার শক্তি পুরো বুঝব সে ক্ষমতা বা জ্ঞান কোনটাই আমার নেই গো। তবু বলি, সত্যি বলছি, তোমার এই মহত্যতায় মাথা নুয়ে আসছে আজ তোমার সামনে। যদি তোমার মত এক অংশও মহৎ হতে পারতাম। সবকিছু না হলেও কিছুটাও দিতে পারতাম এই বিশ্বকে বিনা স্বার্থে। নিজেকে মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারতাম সর্ববন্ধু রুপে। এমন একজন হতে পারতাম যাকে সকলে ভরসা করতে পারে। কি বললে? চেষ্টা করতে? বাঃ, ধন্যবাদ গো। এই না হোলে মানুষ তোমায় দেবতা বলে। জয় হে সুর্য, সুর্যদেব। প্রনমি তোমায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *