অনুগল্প

তোকে দিতে পারি জ্যোৎস্নার স্নিগ্ধতা,
তোকে দিতে পারি আকাশের চাঁদ,
তোকে দিতে পারি সর্বসুখ,
তোর জন্যে ভাঙ্গতে পারি সংস্কৃতির বাঁধ……
তোর জন্যে নরকেও যেতে পারি,
তোর জন্যে সবকিছু করতে পারি এত ভালোবাসি।
……কিরে, বলেছিলি তো এই কথাগুলোই?
পার্কে আমায় জড়িয়ে ধরে বসে?
কিন্তু……
ভুলে গেলি আজ সেসব কথা? বেমালুম?
জ্যোৎস্নার স্নিগ্ধতার বদলে অমাবস্যার অমানিশা আর,
সর্বসুখের বদলে করুন ব্যাথায় জর্জরিত করে,
অন্যের গৃহবধু হয়ে আমার সামনে দিয়ে চলে গেলি যে?
লজ্জাও করলনা তোর? বুক কাঁপলনা রে?
অবশ্য বুক থাকলে তো কাঁপবে।
“আমার সবকিছু তোকে উজার করে দিয়েছি” বলেছিলি
মনে পরে? তবে আজ কি ভাবে পারলি, অন্যের সাথে শুতে?
আজ তোকে জবাব দিতে হবে।
সংস্কৃতির বাঁধ ভাঙ্গার কথা বলেছিলিনা?
সে তো অনেক আগেই ভেঙ্গেছিলি
যেদিন আমার সাথে ভাসলি, ডুবলি,
সেদিন কি মাথায় ছিলোনা, যে
এই বেকার যুবকের সাথে বিয়ে দেবেননা তোর বাবা?
সেদিন জানতিস না, তোর গোঁড়া দাদু
এই অব্রাহ্মনকে মেনে নেবেন না?
তোবে সবের পর সেদিন কেন মাথা নুইয়ে
এসব জানিয়ে নিজেকে নির্দোষ সাজানোর
ব্যর্থ প্রয়াস করে আমাকে একা করে চলে গেলি?
সংস্কৃতির বাঁধ ভাঙ্গার কথা বলেছিলি না?
যেদিন মাকে মিথ্যে বলে, আমার সাথে বেরিয়েছিলি
নিজেকে এঁটো করতে
হাঃ, তুইও হয়েত একদিন মা হবি,
যখন তোর সন্তানকে শাস্তি দিতে যাবি,
মনে কি একবারও পরবেনা, তুই নিজে কি ছিলি?
তোর কাছে আমি কি জবাব চাইব?
শুধু শুনে নে আমার শেষ কথাগুলো,
একটা দিন আসবে যেদিন
একা বসে ভাববি যে,
তুই না পারলি একজন ভালো মেয়ে হতে,
না পারলি কারো ভালো স্ত্রী হতে আর,
না পারলি কারো ভালো মা হতে।
ওরে, তোর জন্মই যে বৃথা রে।
তোর কাছে আমি কি জবাব চাইব?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *